Budget 2026: বাজেট ২০২৬ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সংসদের নিম্নকক্ষে তাঁর নবম বাজেট পেশ করলেন। বিশ্বজুড়ে টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক নিয়ে উত্তেজনার আবহে ভারতের এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের (Budget 2026) আসল অর্থ হলো— “পকেটে কত চাপ পড়ল?” অর্থাৎ, কীসের দাম বাড়ল আর কীসের দাম কমল। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই বাজেটে (Budget 2026) বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড় দিয়ে মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে করের বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিচে বিস্তারিত তালিকা ও আলোচনা দেওয়া হলো।
বাজেট ২০২৬ যা যা সস্তা হচ্ছে (দাম কমল)
এবারের বাজেটে (Budget 2026) স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে এই ক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত পণ্যের দাম কমতে চলেছে।
১. জীবনদায়ী ওষুধ (ক্যানসার ও ডায়াবেটিস)
বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা হলো ক্যানসারের ১৭টি জীবনদায়ী ওষুধের ওপর থেকে সম্পূর্ণভাবে আমদানি শুল্ক (Customs Duty) তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ৭টি বিরল রোগের ওষুধের আমদানিতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ডায়াবেটিসের ওষুধের দামও অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি সাধারণ রোগীদের জন্য একটি বিরাট উপহার।
২. মোবাইল ফোন ও ব্যাটারি
প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসারের লক্ষ্যে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ এবং বিশেষ করে লিথিয়াম-আয়ন সেলের আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে স্মার্টফোন এবং মোবাইল ব্যাটারির দাম অনেকটা কমতে পারে।
৩. ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV)
পরিবেশ দূষণ রোধে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইভি ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ির দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৪. সৌর শক্তি বা সোলার সামগ্রী
সৌর গ্লাস এবং সোলার প্যানেল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে এখন বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানো আগের চেয়ে সাশ্রয়ী হবে।
৫. চামড়ার পণ্য ও জুতো
রপ্তানি বৃদ্ধি ও ক্ষুদ্র শিল্পকে উৎসাহ দিতে চামড়া শিল্পের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চামড়ার জুতো, বেল্ট বা অন্যান্য চামড়াজাত পণ্যের দাম কমবে। এছাড়া সিন্থেটিক ফুটওয়্যারের দামও কিছুটা কমতে পারে।
৬. বিদেশে বেড়ানোর খরচ ও পড়াশোনা
পর্যটন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে বিদেশে ট্যুর প্যাকেজের ওপর টিসিএস (TCS) হার ছিল অনেকটা বেশি। এখন তা কমিয়ে ২% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসাথে লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিমের (LRS) আওতায় বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠানো টাকার ওপর করের হার ৫% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়েছে।
৭. অন্যান্য সামগ্রী
মাইক্রোওয়েভ ওভেন (নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশে ছাড়ের ফলে)।
ক্রীড়া সরঞ্জাম বা স্পোর্টস গুডস।
সিএনজি (CNG) ও বায়োগ্যাস মিশ্রিত জ্বালানি।
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আনা গিফট বা শুল্কযোগ্য পণ্য (শুল্ক ২০% থেকে কমিয়ে ১০% করা হয়েছে)।
Budget 2026: পকেটে টান নাকি স্বস্তি? এক নজরে দেখে নিন কীসের দাম বাড়ল আর কীসের কমল!
বাজেট ২০২৬ যা যা দামি হচ্ছে (দাম বাড়ল)
কিছু বিলাসদ্রব্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়িয়ে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
১. তামাকজাত পণ্য ও সিগারেট
প্রতিবারের মতো এবারও সিগারেট, বিড়ি, গুটখা এবং পান মশলার ওপর স্বাস্থ্য সেস বা আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে নেশাদ্রব্যের দাম অনেকটাই বাড়বে।
২. বিলাসবহুল ঘড়ি ও বিদেশি মদ
বিদেশ থেকে আমদানি করা বিলাসবহুল হাতঘড়ি এবং অ্যালকোহল বা মদের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ফলে শৌখিন মানুষদের এবার পকেটে বাড়তি চাপ পড়বে।
৩. খনিজ দ্রব্য ও স্ক্র্যাপ
লোহা, কয়লা বা লবণের মতো খনিজ পদার্থের শুল্ক কাঠামোয় বদল আসার কারণে এগুলোর দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ধাতব স্ক্র্যাপ আমদানিতেও খরচ বাড়তে পারে।
৪. শেয়ার বাজারে ট্রেডিং
বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় খবর হলো, ফিউচার ও অপশন (F&O) বা ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে যারা শেয়ার বাজারে লেনদেন করেন, তাঁদের খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

বাজেটের প্রভাব ও বিশ্লেষণ
২০২৬ সালের এই বাজেট (Budget 2026) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার মূলত ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং রপ্তানি বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আমেরিকার ট্যারিফ যুদ্ধের পালটা দিতে এবং ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতেই চামড়া, মোবাইল ও ইভি-র ওপর কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। মধ্যবিত্তের জন্য ওষুধের দাম কমানো এবং বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার টিসিএস কমানো একটি ইতিবাচক দিক।
তবে আয়করের ক্ষেত্রে খুব বড় কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসেনি, যদিও স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়ানোর মাধ্যমে বেতনভোগী কর্মচারীদের সামান্য সুরাহা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
উপসংহার:
মোবাইল থেকে শুরু করে জীবনদায়ী ওষুধ- অনেক কিছুই সস্তা হতে চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও, নেশাদ্রব্য ও বিলাসবহুল সামগ্রীর দাম বাড়ায় একদল মানুষ অখুশি হতে পারেন। তবে সামগ্রিকভাবে এই বাজেট উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে কি না, তা সময়ই বলবে।
আপনার কি মনে হয় এই বাজেটে (Budget 2026) সাধারণ মানুষের প্রকৃত লাভ হলো? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান।
আরো পড়ুন– বাংলা আবাসের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার ঘোষণা
আরো পড়ুন– পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার চূড়ান্ত রায়। প্রতীক্ষার অবসন ঘটছে।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে চ্যানেলগুলির লিংক দেওয়া হলো।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে👇
টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে 👇