Gold and Silver rate for future: সোনার ঝলক আর রুপোর চমক—এই দুই মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা সবসময়ই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বাজারে যে পরিমাণ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তাতে আগামী এক মাসে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬) দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাজার এবং দেশীয় বাজারের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, সোনা ও রুপো উভয় ধাতুই (Gold and Silver rate for future) একটি বড় ধরনের সংশোধনের (Correction) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আগামী ৩০ দিনে সোনা ও রুপোর সম্ভাব্য গতিবিধি কেমন হতে পারে।
আগামী এক মাসে সোনা ও রুপোর দামের পূর্বাভাস: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বাজার বিশ্লেষণ
বর্তমানে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৩,০০০ টাকা থেকে ১,৫৮,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে, রুপো প্রতি কেজিতে ২,৩৫,০০০ টাকা থেকে ২,৭৫,০০০ টাকার স্তরে অবস্থান করছে। গত কয়েক সপ্তাহের রেকর্ড উচ্চতা থেকে দাম কিছুটা কমলেও, বাজার বিশেষজ্ঞরা একে “সাময়িক পতন” বা “হেলদি কারেকশন” হিসেবে দেখছেন।
সোনার দামের সম্ভাব্য গতিপথ
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে সোনা একটি শক্তিশালী ‘বুল রান’ বা ঊর্ধ্বমুখী (Gold and Silver rate for future) প্রবণতার মধ্যে রয়েছে। তবে আগামী এক মাসে দাম খুব বেশি আকাশছোঁয়া না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাপোর্ট লেভেল: দেশীয় বাজারে (MCX) সোনার শক্তিশালী সাপোর্ট লেভেল রয়েছে ১,৫০,০০০ থেকে ১,৫২,০০০ টাকার আশেপাশে। যদি কোনো কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতা বা মার্কিন ডলারের প্রভাব কমে, তবে এই স্তরে সোনা কেনা একটি ভালো সুযোগ হতে পারে।
রেজিস্ট্যান্স লেভেল: যদি দাম বাড়তে শুরু করে, তবে প্রথম বাধা আসতে পারে ১,৬২,৫০০ টাকায়। মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সোনা যদি এই স্তর অতিক্রম করতে পারে, তবে তা ১,৭০,০০০ টাকার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
রুপোর বাজারে অস্থিরতা ও সম্ভাবনা
রুপোর বাজার সোনার চেয়েও অনেক বেশি অস্থির। ২০২৬-এর শুরুতে রুপো প্রতি কেজি ৪ লক্ষ টাকার গণ্ডি স্পর্শ করার পর এখন বড় পতনের সম্মুখীন। তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি আশীর্বাদ হতে পারে।
শিল্প চাহিদা: বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে রুপোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালে রুপোর যোগানের ঘাটতি (Deficit) বজায় থাকবে, যা দামকে আবার উপরের দিকে ঠেলে দেবে।
পূর্বাভাস: আগামী এক মাসে রুপো ২,৫০,০০০ থেকে ২,৯০,০০০ টাকার মধ্যে কনসলিডেট বা থিতু হতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীদের নজর রাখতে হবে যদি দাম ২,৩৫,০০০ টাকার নিচে নামে, সেক্ষেত্রে আরও কিছুটা দরপতন হতে পারে।
Gold and Silver rate for future: আগামী এক মাসের মধ্যে সোনা ও রুপোর দাম কত হতে পারে দেখুন।
দাম কেন ওঠানামা করছে? প্রধান ৫টি কারণ
১. মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত: ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সুদের হার কমানোর একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাধারণত সুদের হার কমলে সোনা ও রুপোর দাম (Gold and Silver rate for future) বাড়ে। আগামী এক মাসের ফেডারেল রিজার্ভের মন্তব্য বাজারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
২. ডলার ইনডেক্স: মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পেলে সোনা সস্তা হয়। বর্তমানে ডলার ইনডেক্স বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় সোনা ও রুপোর ওপর কিছুটা চাপ বজায় রয়েছে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের রাজনৈতিক অস্থিরতা সবসময়ই সোনার দাম বাড়িয়ে দেয়। নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven) হিসেবে মানুষ তখন সোনার দিকে ঝুঁকে পড়ে।
৪. চিন ও ভারতের চাহিদা: বিশ্বের অন্যতম বড় দুই সোনার বাজারে শারীরিক চাহিদার (Physical Demand) ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। সামনে বিয়ের মরসুম বা বড় কোনো উৎসব থাকলে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়তে পারে।
৫. সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলোর ভূমিকা: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন রেকর্ড পরিমাণ সোনা মজুত করছে। এই অতিরিক্ত চাহিদা সোনার দামকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য টিপস: এখন কি কেনা উচিত?
আপনি যদি অলঙ্কার বা গয়না বানানোর জন্য সোনা কিনতে (Gold and Silver rate for future) চান, তবে বর্তমানের এই দরপতন আপনার জন্য সুবর্ণ সুযোগ। আর যদি বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই এককালীন বড় টাকা না ঢেলে ‘বাই অন ডিপ’ (Buy on Dip) বা দাম কমলে কেনা—এই কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
মনে রাখবেন: সোনা ও রুপোর বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো বিনিয়োগের আগে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া বা বাজারের সর্বশেষ খবর যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
উপসংহার
সামগ্রিকভাবে, আগামী এক মাস সোনা ও রুপোর বাজার কিছুটা থিতু (Gold and Silver rate for future) হতে পারে। দাম হু হু করে না বাড়লেও বড় ধরনের পতনের সম্ভাবনাও কম। যারা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, তাদের জন্য ২০২৬ সাল অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। কারণ অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, ২০২৬-এর শেষ নাগাদ সোনা ২ লক্ষ টাকা এবং রুপো ৩ লক্ষ টাকার মাইলফলক ছুঁতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এই আর্টিকেলটি কেবল তথ্যের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। শেয়ার বাজার বা কমোডিটি বাজারে বিনিয়োগ করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
আরো পড়ুন– নতুন যারা এখনো লক্ষীর ভান্ডারের টাকা পাইনি তারা কবে টাকা পাবে?
আরো পড়ুন– পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার চূড়ান্ত রায়। প্রতীক্ষার অবসন ঘটছে।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে চ্যানেলগুলির লিংক দেওয়া হলো।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে👇
টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে 👇