Laxmi Bhandar application status check: পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয়তম নারীকল্যাণ প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেব্রুয়ারির বাজেট অধিবেশনে এই প্রকল্পের ভাতা একলাফে অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে নতুন আবেদনকারীদের জন্য খুশির খবর রয়েছে। আপনি যদি নতুন আবেদনকারী হন বা আবেদন করার কথা ভাবছেন, তবে আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ২০২৬ নতুন আবেদনকারীরা কবে থেকে টাকা পাবেন?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেট অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছেন যে, যারা ইতিপূর্বে আবেদন করেছেন এবং যাদের আবেদনপত্র অনুমোদিত হয়েছে, তারা এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বর্ধিত টাকা পেতে শুরু করবেন।
তবে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে:
১. আবেদন ও ভেরিফিকেশন: যারা দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা বিডিও অফিসে নতুন আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের নথিপত্র বর্তমানে স্ক্রুটিনি বা যাচাইয়ের স্তরে রয়েছে।(Laxmi Bhandar application status check)
২. অনুমোদনের সময়সীমা: সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
৩. টাকা পাওয়ার দিনক্ষণ: সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ২০.৬২ লক্ষ নতুন আবেদনকারীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। যাদের আবেদন ইতিমধ্যে মঞ্জুর হয়েছে বা ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষ হবে, তারা ফেব্রুয়ারি বা মার্চের কিস্তি থেকেই টাকা পেতে শুরু করবেন। বকেয়া বা এরিয়ার হিসেবে আবেদনের তারিখ থেকে অনুমোদনের সময় পর্যন্ত টাকা একসাথে পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে।
কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা হলেন:
স্থায়ী বাসিন্দা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
বয়সসীমা: আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গেলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে আসবেন।
স্বাস্থ্যসাথী কার্ড: পরিবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক (যদিও বর্তমান নিয়মে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়েছে, তবে কার্ড থাকা সুবিধাজনক)।(Laxmi Bhandar application status check)
আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড এবং একটি একক (Single) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে টাকা ঢুকতে সমস্যা হতে পারে।
Laxmi Bhandar application status check: নতুন লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা কবে ঢুকবে? কারা টাকা পাবে ও কারা পাবে না দেখুন।
কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না?
অনেকেই আবেদন করেও টাকা পান না। তার প্রধান কারণ হতে পারে নিচের এই বিষয়গুলি:
১. সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগী: কোনো মহিলা যদি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পঞ্চায়েত বা পুরসভা থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন পান, তবে তিনি এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য।
২. আয়কর দাতা: কোনো পরিবারের সদস্য যদি আয়কর প্রদান করেন, তবে সেই পরিবারের মহিলারা এই সুবিধা পাবেন না।(Laxmi Bhandar application status check)
৩. ভুল তথ্য প্রদান: আবেদনপত্রের নাম বা তথ্য যদি আধার কার্ড ও ব্যাঙ্কের নথির সাথে না মেলে, তবে আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
৪. বয়স সমস্যা: ২৫ বছরের কম বা ৬০ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা আবেদন করতে পারবেন না।
ভাতার পরিমাণ: কত টাকা পাবেন এখন থেকে?
২০২৬ সালের নতুন বাজেট অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদের দুটি ভাগে ভাগ করে টাকা দেওয়া হচ্ছে:
তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) আগে দেওয়া হতো ১২০০ টাকা বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে ১৭০০ টাকা।
সাধারণ ও ওবিসি (General/OBC) আগে দেওয়া হতো ১০০০ টাকা বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে ১৫০০ টাকা |
নতুন আবেদন করতে কী কী নথি প্রয়োজন?
আপনি যদি এখনও আবেদন না করে থাকেন, তবে পরবর্তী ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে বা বিডিও অফিসে গিয়ে নিচের নথিপত্র সহ আবেদন করতে পারেন:(Laxmi Bhandar application status check)
রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ফটোকপি।
আধার কার্ডের ফটোকপি।
এসসি/এসটি সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠার ফটোকপি (যেখানে নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড আছে)।
স্ব-ঘোষণাপত্র (Self-declaration form)।

টাকা পাবেন কিনা স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?
আপনার আবেদন কতদূর এগোল বা টাকা কেন ঢুকছে না, তা জানার জন্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টাল (Laxmi Bhandar application status check) রয়েছে।
১. socialsecurity পোর্টালে যান।
২. আপনার নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) জেনারেট করুন।
৩. ‘Check Application Status’ অপশনে ক্লিক করে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখে নিন।
উপসংহার:
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি বাংলার কোটি কোটি মহিলার আত্মনির্ভরতার প্রতীক। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ভাতার এই বৃদ্ধি ও নতুন উপভোক্তাদের অন্তর্ভুক্তি মহিলাদের অর্থনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত করবে। যারা নতুন আবেদন করেছেন, তারা ধৈর্য ধরুন; খুব শীঘ্রই আপনাদের ব্যাঙ্কে খুশির খবর আসতে চলেছে।
লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের স্ট্যাটাস চেক লিংক- ক্লিক করুন
আরো পড়ুন-ফেব্রুয়ারিতেই লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন কিনা চেক করুন।
আরো পড়ুন– বাংলা আবাসের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার ঘোষণা
আরো পড়ুন– মহিলাদের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকার নতুন প্রকল্প চালু , আবেদন শুরু3
আরো পড়ুন- পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি | ধাপে ধাপে গাইড
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে চ্যানেলগুলির লিংক দেওয়া হলো।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে👇
টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে 👇
Check kar a kara pabe ar kara kara pabe na