West Bengal DA: পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং নবান্নের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কয়েক লক্ষ প্রাক্তন সরকারি কর্মী এবং পারিবারিক পেনশন প্রাপকরা তাঁদের পাওনা বকেয়া পেতে চলেছেন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ২০১৬ সালের আগের অবসরপ্রাপ্তরা, স্কুল-কলেজ বা পুরসভার পেনশনার এবং মৃত পেনশনারদের উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো কিছুটা আলাদা।(West Bengal DA)
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো কীভাবে এই বকেয়া মিলবে এবং কাদের কী করণীয়।
বকেয়া ডিয়ারনেস রিলিফ: কাদের জন্য এই ঘোষণা?
রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি (No. 997-F(P2), তারিখ: ১৩ মার্চ, ২০২৬) অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা রিলিফ প্রদান করা হবে। এটি মূলত ROPA ২০০৯ কাঠামোর আওতাধীন বকেয়া। আদালতের নির্দেশে এই বকেয়া আপাতত দু’টি কিস্তিতে দেওয়া হচ্ছে— প্রথম কিস্তি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
১. জীবিত পেনশন প্রাপকরা কীভাবে বকেয়া পাবেন?
যেসব পেনশনার বর্তমানে নিয়মিত পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ ও স্বয়ংক্রিয়।
ব্যাঙ্ক বা ট্রেজারি মারফত: অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেনশনারদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা ট্রেজারি তাদের রেকর্ডে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বকেয়া টাকা (West Bengal DA) সরাসরি পেনশনারের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে।
হিসাব পদ্ধতি: ২০১৬-২০১৯ কালপর্বে আপনি কত টাকা পেনশন পেয়েছিলেন, তার উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট শতাংশ হারে (AICPI অনুযায়ী) এই বকেয়া গণনা করা হবে।
কলকাতার বাইরে থাকল: যদি কেউ কলকাতার বাইরে থাকেন এবং অন্য রাজ্যের এজি (Accountant General) অফিস থেকে পেনশন পান, তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই নির্দিষ্ট রাজ্যের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ পাঠাবে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য।
২. ২০১৬ সালের আগে যাঁরা অবসর নিয়েছেন তাঁদের কী হবে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে যে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁরা কি এই বকেয়া পাবেন? উত্তর হলো— হ্যাঁ, তাঁরাও পাবেন। বকেয়াটি দেওয়া হচ্ছে মূলত ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে বকেয়া থাকা ‘রিলিফ’-এর জন্য। তাই আপনি যদি ২০০৫ বা ২০১০ সালে অবসর নিয়ে থাকেন, তবুও আপনি ২০১৬-২০১৯ সময়কালে একজন জীবিত পেনশনার ছিলেন এবং তৎকালীন মহার্ঘ ভাতা (West Bengal DA) থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সেই কারণে ওই চার বছরের পাওনা ডিআর (DR) আপনারও প্রাপ্য। তবে এক্ষেত্রে আপনার তৎকালীন ‘বেসিক পেনশন’-এর ওপর ভিত্তি করে বকেয়া গণনা করা হবে।
West Bengal DA: পেনশনারদের জন্য সুখবর। বকেয়া ডিয়ারনেস রিলিফ পাওয়ার নিয়মাবলী ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
৩. পেনশনার যদি এখন জীবিত না থাকেন তখন কী করণীয়?
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। ২০১৬-২০১৯ এর বকেয়া টাকা পাওয়ার কথা ছিল যে পেনশনারের, তিনি যদি বর্তমানে প্রয়াত হন, তবে তাঁর পাওনা টাকা বিফলে যাবে না।
পারিবারিক পেনশন (Family Pension): যদি মৃত পেনশনারের জায়গায় তাঁর স্বামী বা স্ত্রী ‘ফ্যামিলি পেনশন’ পান, তবে তাঁর অ্যাকাউন্টাই ওই বকেয়া টাকা জমা পড়বে।
আইনি উত্তরাধিকারী বা নমিনি: যদি ফ্যামিলি পেনশন পাওয়ার মতো কেউ না থাকেন, তবে মৃত পেনশনারের LTA (Lifetime Arrears) নমিনি বা বৈধ আইনি উত্তরাধিকারী এই দাবি জানাতে পারেন।
কীভাবে আবেদন করবেন: এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীকে পেনশনারের শেষ কর্মস্থল (PSA) বা সংশ্লিষ্ট ট্রেজারিতে মৃত্যু শংসাপত্র এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রমাণপত্র (Succession Certificate/Nomination papers) নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দিলে ভেরিফিকেশনের পর টাকা মিলবে।
৪. স্কুল-কলেজ ও পুরসভার মতো সরকার পোষিত পেনশনারদের ক্ষেত্রে কী হবে?
রাজ্য সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ (State-Aided Educational Institutions), পুরসভা (Municipality), পঞ্চায়েত এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থার পেনশনাররাও এই সুবিধার আওতায় পড়বেন।
অনুমোদন পদ্ধতি: শিক্ষা দপ্তর বা পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মতো স্ব-স্ব প্রশাসনিক দপ্তর এই বকেয়া মেটানোর জন্য পৃথক আদেশ জারি করবে।
গণনা পদ্ধতি: সরকারি কর্মীদের মতোই এদের বকেয়াও ROPA ২০০৯-এর কাঠামো অনুযায়ী হিসেব হবে। সাধারণত জেলা স্কুল পরিদর্শক (DI) বা কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ট্রেজারি থেকে এই বকেয়া ছাড় (West Bengal DA) করানো হয়। স্কুল শিক্ষকদের ক্ষেত্রে শেষ কর্মস্থল অর্থাৎ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে তথ্য ভেরিফাই (West Bengal DA) করার প্রয়োজন হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট ও সতর্কতা
১. HRMS পোর্টাল: বর্তমান পেনশনারদের তথ্য সরকারি পোর্টাল WBiFMS/HRMS-এ নথিভুক্ত আছে। যাদের তথ্য পোর্টালে নেই, তাদের হয়তো ‘ম্যানুয়াল’ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
২. কিস্তিতে পেমেন্ট: মনে রাখবেন, পুরো বকেয়া একসাথে পাওয়া যাবে না। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আপাতত প্রথম কিস্তি অর্থাৎ মোট বকেয়ার একটি অংশ (সাধারণত ২৫% থেকে ৫০% এর মধ্যে) ছাড়া হচ্ছে। বাকিটা পরবর্তী কিস্তিতে মিলবে।
৩. বিভাগীয় যোগাযোগ: যদি মার্চ ২০২৬-এর শেষেও আপনি বকেয়া না পান, তবে বিলম্ব না করে আপনার পেনশন যে ব্যাঙ্ক বা ট্রেজারি থেকে আসে, সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করুন।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে লক্ষাধিক প্রবীণ নাগরিক উপকৃত হবেন। বিশেষ করে ২০১৬ সালের আগের পেনশনারদের (West Bengal DA) জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি।
আরো পড়ুন-বাংলার যুবসাথী প্রকল্পে নিয়োগ চলছে। কীভাবে আবেদন করবেন? বেতন ও যোগ্যতা জানুন বিস্তারিত
আরো পড়ুন– যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ কিভাবে করবেন? কি কি কাগজ লাগবে?
আরো পড়ুন–আপনার প্রাপ্য ডিএ ক্যালকুলেট করুন। এই ক্যালকুলেটরে এক ক্লিকে জেনে নিন।
আরো পড়ুন- পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি | ধাপে ধাপে গাইড
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে চ্যানেলগুলির লিংক দেওয়া হলো।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে👇