West Bengal School Teacher Tuition Ban: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তর (West Bengal Education Department) সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, সরকারি ও সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকরা আর কোনোভাবেই টিউশন বা প্রাইভেট কোচিং করাতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।
শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
শিক্ষা দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, স্কুল শিক্ষকরা তাঁদের নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আলাদা করে পড়াতে পারবেন না। অফলাইন হোম টিউশন হোক বা অনলাইন কোচি সব ক্ষেত্রেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুল শিক্ষক টিউশন নিষিদ্ধ পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।
কেন নেওয়া হলো এই কড়া সিদ্ধান্ত?
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা দপ্তরের কাছে অভিযোগ আসছিল যে অনেক শিক্ষক স্কুলের ক্লাসে পাঠদান যথাযথভাবে না করে ছাত্রছাত্রীদের টিউশনের উপর নির্ভরশীল করে তুলছেন। এর ফলে- অভিভাবকদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ স্কুল শিক্ষার মানের অবনতি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ছাত্রদের পিছিয়ে পড়া এই সমস্যাগুলির সমাধান করতেই West Bengal school teacher tuition ban কার্যকর করার পথে হেঁটেছে সরকার।
কোন কোন শিক্ষক এই নিয়মের আওতায় পড়বেন?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা (West Bengal School Teacher Tuition Ban) প্রযোজ্য হবে- সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর
সরকার পোষিত ও সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পার্টটাইম বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক যারা সরকারি নিয়মে নিযুক্ত অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় সব সরকারি স্তরের স্কুল শিক্ষকই এই নির্দেশিকার আওতায় আসছেন।
কী ধরনের টিউশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?
শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী- নিজের স্কুলের ছাত্রদের টিউশন পড়ানো যাবে না অন্য স্কুলের ছাত্রদেরও অর্থের বিনিময়ে পড়ানো নিষিদ্ধ
কোচিং সেন্টারে শিক্ষক হিসেবে কাজ করা যাবে না
অনলাইন পেইড ক্লাস বা ব্যাচ চালানো নিষিদ্ধ। সব মিলিয়ে School teacher private tuition ban in West Bengal পুরোপুরি কার্যকর করা হচ্ছে।
West Bengal School Teacher Tuition Ban: পশ্চিমবঙ্গে স্কুল শিক্ষকদের টিউশন পড়ানো নিষিদ্ধ শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ
নিয়ম ভাঙলে কী শাস্তি হতে পারে?
এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া হতে পারে—
কারণ দর্শানোর নোটিস
বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত
বিভাগীয় তদন্ত
গুরুতর ক্ষেত্রে চাকরি সংক্রান্ত কঠোর ব্যবস্থা। শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, নিয়ম ভাঙার বিষয়ে কোনো রকম শিথিলতা দেখানো হবে না।

শিক্ষকদের জন্য বিকল্প কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে?
শিক্ষা দপ্তর স্পষ্ট করেছে, ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে স্কুলের মধ্যেই—
রিমেডিয়াল ক্লাস
স্পেশাল সাপোর্ট ক্লাস
অতিরিক্ত একাডেমিক প্রোগ্রাম
চালু করা যেতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং সরকারি নিয়ম মেনে।
অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য কী বার্তা?
এই সিদ্ধান্তের ফলে টিউশনের অতিরিক্ত খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলেই পড়াশোনার মান উন্নত হবে। শিক্ষা দপ্তর অভিভাবকদের অনুরোধ করেছে, কোথাও নিয়ম ভাঙার ঘটনা নজরে এলে তা স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনকে জানাতে।
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষক টিউশন নিষিদ্ধ (West Bengal School Teacher Tuition Ban) আপডেট রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। শিক্ষকতার পেশাগত দায়িত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং স্কুলকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ফের মজবুত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
আরো পড়ুন–SIR Hearing কারা ডাক পাবেন, কাদের বাড়িতে নোটিশ যাবে, কোথায় হবে শুনানি?
আরো পড়ুন– কবে ট্যাব কেনার ১০,০০০ টাকা ঢুকবে? কেন দেরি হচ্ছে?
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে চ্যানেলগুলির লিংক দেওয়া হলো।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে👇
টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে 👇