Yuva Sathi Scheme: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় এবং জনহিতকর প্রকল্প হলো ‘যুবশ্রী’ বা ‘যুবসাথী’ প্রকল্প (Yuva Sathi Scheme)। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে এবং তাঁদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এই প্রকল্পটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সফলভাবে চলছে। তবে এই প্রকল্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থীদের মনে একটি বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে— “আমি যদি বেসরকারি সংস্থায় ছোটখাটো কোনো কাজ করি, তবে কি মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা পাব?” এই প্রতিবেদনটি আপনাকে সেই ধোঁয়াশা কাটাতে সাহায্য করবে।
যুবসাথী বা যুবশ্রী প্রকল্প আসলে কী?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১৩ সালে এই প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) সূচনা হয়। মূলত রাজ্যের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত থাকা কর্মহীন যুবক-যুবতীদের মাসিক ১৫০০ টাকা করে উৎসাহ ভাতা প্রদান করাই হলো এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এই টাকা দিয়ে তারা যেন বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেন কিংবা কোনো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রতি বছর কয়েক হাজার নতুন আবেদনকারীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। তবে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা গাইডলাইন রয়েছে, যা নবান্নের পক্ষ থেকে বারংবার স্পষ্ট করা হয়েছে।
বেসরকারি চাকরি করলে কি ১৫০০ টাকা পাওয়া যাবে?
নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুবশ্রী বা যুবসাথী প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) মূল শর্তই হলো আবেদনকারীকে “পুরোপুরি বেকার বা কর্মহীন” হতে হবে। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের নজরে রাখতে হবে।
নথিভুক্ত বেকার: আবেদনকারীকে অবশ্যই এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের একজন সক্রিয় সদস্য হতে হবে।
কর্মসংস্থান না থাকা: যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো সংস্থায় স্থায়ী বা অস্থায়ী কাজ পান, তবে তিনি তৎক্ষণাৎ এই ভাতার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নিয়ম: যদি কোনো প্রার্থী কোনো নামী বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন এবং যেখানে তাঁর PF (Provident Fund) বা ESI কাটা হচ্ছে, তবে সরকারের কাছে সেই তথ্য সহজেই পৌঁছে যায়। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পার্ট-টাইম বা ছোট কাজ: অনেক সময় দেখা যায় প্রার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি বা ছোটখাটো অস্থায়ী কাজ করেন। টেকনিক্যালি, কোনো আয়ের উৎস থাকলে এই ভাতা পাওয়ার কথা নয়। তবে যদি সেই কাজ কোনো আইনি নথি বা স্যালারি স্লিপের আওতায় না আসে, তবে অনেকেই তা গোপন করেন। কিন্তু নবান্নের কড়া নির্দেশ হলো— কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন করলে এই ভাতা ভোগ করা নৈতিক ও আইনিভাবে ভুল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো সুবিধাভোগী যদি কর্মসংস্থান খুঁজে পান (সেটি সরকারি হোক বা বেসরকারি), তবে তাঁকে স্বেচ্ছায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জকে জানাতে হবে যাতে তাঁর ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেই সুযোগ অন্য কোনো অভাবী বেকার প্রার্থী পেতে পারেন।
Yuva Sathi Scheme: বেসরকারি চাকরি করলে যুবসাথীর ১৫০০ টাকা দেবে? দেখুন নবান্নের নির্দেশ
কেন এই কড়াকড়ি?
রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত অভাবী এবং কর্মহীনদের পাশে দাঁড়ানো। যদি একজন ব্যক্তি বেসরকারি সংস্থায় মোটা টাকা বেতন পান এবং পাশাপাশি সরকারি ভাতাও গ্রহণ করেন, তবে অন্য একজন যোগ্য বেকার প্রার্থী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এই ‘ডুপ্লিকেসি’ বা জালিয়াতি রুখতে রাজ্য প্রশাসন এখন অনেক বেশি তৎপর। বর্তমানে ডেটাবেস যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা হচ্ছে কারা কাজ পেয়েও ভাতা নিচ্ছেন।
আবেদন করার যোগ্যতা ও শর্তাবলী
আপনি যদি এখনও এই প্রকল্পে (Yuva Sathi Scheme) নাম নথিভুক্ত না করে থাকেন, তবে জেনে নিন কারা এই ১৫০০ টাকা পাওয়ার যোগ্য:
বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাস হতে হবে। তবে উচ্চশিক্ষিত বেকাররাও আবেদন করতে পারেন।
আবাসিক যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
পরিবারের আয়: পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল হলে এই ভাতার জন্য আবেদন করা যায় না।
এক পরিবারে একজন: একই পরিবারের কেবল একজন সদস্যই এই প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) সুবিধা পেতে পারেন।
অ্যানেক্সার-৩ (Annexure-III) জমা দেওয়ার গুরুত্ব
যুবশ্রী প্রকল্পের টাকা বজায় রাখতে গেলে প্রতি ছয় মাস অন্তর Annexure-III ফর্ম জমা দিতে হয়। এই ফর্মটি হলো একটি ‘সেলফ ডিক্লেয়ারেশন’ বা স্ব-ঘোষণা পত্র। এখানে প্রার্থীকে লিখে দিতে হয় যে:
তিনি এখনও বেকার আছেন।
তিনি এই টাকা পড়াশোনা বা চাকরির প্রস্তুতির জন্য খরচ করছেন।
যদি কেউ বেসরকারি চাকরি করা সত্ত্বেও মিথ্যে তথ্য দিয়ে এই ফর্ম জমা দেন এবং পরে তা ধরা পড়ে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং প্রদান করা টাকা ফেরত চাওয়া হতে পারে।
কর্মসংস্থান হলে আপনার করণীয় কী?
আপনি যদি যুবশ্রী ভাতার (Yuva Sathi Scheme) তালিকাভুক্ত থাকাকালীন কোনো বেসরকারি সংস্থায় স্থায়ী চাকরিতে যোগ দেন, তবে আপনার নৈতিক দায়িত্ব হলো স্থানীয় Employment Exchange অফিসে গিয়ে একটি লিখিত আবেদন করা। সেখানে আপনার কর্মসংস্থানের কথা জানিয়ে নাম কাটিয়ে নিতে হবে। এতে সরকারের কাছে আপনার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় থাকবে এবং কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হবে না।
সবশেষে বলা যায়, যুবসাথী বা যুবশ্রী প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) ১৫০০ টাকা কোনো বেতন নয়, বরং এটি বেকারদের জন্য একটি ‘উৎসাহ ভাতা’। নবান্নের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, এই টাকা শুধুমাত্র তাদের জন্য যাদের কোনো সুনির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই। বেসরকারি চাকরিতে ভালো বেতন পেলে এই ভাতা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্বচ্ছতার সাথে এই প্রকল্পের সুবিধা নিন এবং রাজ্যকে বেকারত্বমুক্ত করতে সহযোগিতা করুন।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট employmentbank website ফলো করুন। মনে রাখবেন, সঠিক তথ্য প্রদান করা আপনার নাগরিক দায়িত্ব।
যুবসাথী প্রকল্পের ক্যাম্পের লিস্ট– লিংক
আরো পড়ুন-ফেব্রুয়ারিতেই লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন কিনা চেক করুন।
আরো পড়ুন– যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ কিভাবে করবেন? কি কি কাগজ লাগবে?
আরো পড়ুন– মহিলাদের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকার নতুন প্রকল্প চালু , আবেদন শুরু3
আরো পড়ুন- পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি | ধাপে ধাপে গাইড
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে চ্যানেলগুলির লিংক দেওয়া হলো।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান নিচে ক্লিক করে👇